
মোঃ মোশারফ হোসেন
কুমিল্লার কুমারপাড়া ও বাগড়া বাজারের মধ্যবর্তী গোমতী নদী ব্রিজ এবং সংলগ্ন সড়কের করুণ দশা নিয়ে স্থানীয় সাধারণ মানুষ সহ সামাজিক সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করলেও, এখনো কার্যকর কোনো সংস্কারমূলক পদক্ষেপ দেখা যায়নি। প্রতিদিন লক্ষাধিক মানুষ, হাজার হাজার সিএনজি অটোরিকশা, যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক এবং ব্যক্তিগত যানবাহন এই সড়ক ব্যবহার করছে। বিশেষ করে বাগড়া থেকে কবিরাজ বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা এই সড়ক ছাড়া অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য যোগাযোগ ব্যবস্থার অধিকারী নয়।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “সরকার আসে, সরকার যায়; নেতা আসে, নেতা যায়। সকাল-বিকাল শুধু আশ্বাসই শোনা যায়, কিন্তু বাস্তবে সংস্কার হয় না। আমাদের চলাচলের প্রধান মাধ্যম এই ব্রিজ। এখানে বড়সড় দুর্ঘটনা ঘটলে তা হবে প্রশাসনিক অবহেলার ফল।”বিভিন্ন স্থান থেকে পাঠানো অভিযোগ অনুযায়ী, সড়কের মূল সমস্যাগুলো হলোখানাখন্দ ও বড় গর্ত: সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত ও ভাঙা অংশ থাকায় যানবাহন ধীর গতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে।জানজট: ভাঙাচোরা রাস্তা চলাচলকে সীমিত করছে, প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।দুর্ঘটনার ঝুঁকি: বিশেষ করে রাত বা বৃষ্টির দিনে ভাঙা অংশগুলো বোঝা যায় না, ফলে ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে।জনভোগান্তি: স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অফিসগামী মানুষ, রোগীবাহী যান ও ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন বলছেন, “যদি ব্রিজ ও সড়ক শুধুমাত্র নথিপত্রে সংস্কারের আওতায় থাকে, তবে সাধারণ মানুষের এই দুর্ভোগ কখনও শেষ হবে না। আমরা আর আশ্বাস শুনতে চাই না; এবার চাই বাস্তব পদক্ষেপ।”অতীতেও একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসন, নেতৃবৃন্দ এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর যেমন সড়ক ও জনপথ বিভাগ (RHD) ও স্থানীয় সরকার বিভাগ (LGD) সংস্কারের আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তা থেকে কোনো বাস্তব ফলাফল প্রকাশ পায়নি। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, ভাঙাচোরা এই সড়ক এবং ব্রিজ যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।স্থানীয় মানুষ ও সচেতন নাগরিকরা সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং স্থানীয় সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করার আহ্বান জানাচ্ছেন। তাদের দাবী হলো—জরুরি সংস্কার ও মেরামত: গোমতী ব্রিজ থেকে বাগড়া বাজার পর্যন্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার করতে হবে।প্রসারণ ও আধুনিকায়ন: শুধু সংস্কার নয়, সড়ক ও ব্রিজকে সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করে দীর্ঘমেয়াদী নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ: রোড ও হাইওয়ে বিভাগকে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এই ধরণের দুর্ভোগ এড়ানো যায়।স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, “যদি কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হয়, তবে কেবল ভাঙাচোরা রাস্তা নয়, বৃহৎ জনগোষ্ঠীর জীবনমানও বিপন্ন হতে পারে। সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি—এটি কেবল যোগাযোগের নয়, মানুষের নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”উত্তরের সাধারণ মানুষদের এই আহ্বান স্পষ্ট— গোমতী ব্রিজ ও সংলগ্ন সড়ককে দ্রুত সংস্কারের আওতায় এনে, পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনার মাধ্যমে নিরাপদ ও আধুনিক করা আবশ্যক।