
জ্বালানি অপচয়, বেসরকারি ড্রেজার ভাড়া ও খনন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিয়ে উঠেছে নানা প্রশ্ন
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নদী খননের নামে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও অনেক নৌপথে কাঙ্ক্ষিত নাব্যতা ফিরে আসছে না। এতে সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার ও প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, আরিচা-কাজীরহাট, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া, ভৈরব-আশুগঞ্জ এবং মোংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথে ড্রেজিং কার্যক্রমে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। কোথাও কোথাও ড্রেজার পরিচালনার তথ্য ও জ্বালানি ব্যবহারের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে খননকৃত বালু ও পলি অপসারণের নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বিআইডব্লিউটিএর নিজস্ব ড্রেজার থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন সময়ে বেসরকারি ড্রেজার ভাড়ার ওপর নির্ভরশীলতা বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে ব্যয় ও কাজের মান নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রকৃত কাজের তুলনায় অতিরিক্ত বিল উত্তোলনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ড্রেজার মেরামত ও যন্ত্রাংশ ক্রয়েও অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, মেরামতের নামে বিপুল অর্থ ব্যয়ের পরও অনেক ড্রেজার দীর্ঘ সময় অচল অবস্থায় পড়ে থাকে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নে বিঘ্ন ঘটার পাশাপাশি সরকারি সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
নৌপরিবহন খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, নদীপথের নাব্যতা রক্ষায় কার্যকর ও স্বচ্ছ ড্রেজিং কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনিয়ম ও দুর্বল তদারকির কারণে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বিভিন্ন নৌপথে নাব্যতা সংকট অব্যাহত রয়েছে, যা নৌযান চলাচল ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
এ বিষয়ে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ড্রেজিং প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রেজিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আধুনিক ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। পাশাপাশি প্রকল্পের স্বাধীন নিরীক্ষা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা গেলে সরকারি অর্থের অপচয় কমবে এবং নৌপথের নাব্যতা রক্ষায় ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।