
কুমিল্লার হোমনা পৌরসভার পানি শোধনাগার (ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) থেকে যথাযথভাবে পরিশোধন না করেই গ্রাহকদের মাঝে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। এতে পানির মান ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
ভুক্তভোগী বাসিন্দাদের অভিযোগ, সরবরাহকৃত পানিতে দুর্গন্ধ, ময়লা, শেওলা এবং নদীর পানির মতো ঘোলাটে রং দেখা যাচ্ছে। তাদের দাবি, শোধনাগারের মাধ্যমে যথাযথ প্রক্রিয়ায় পানি বিশুদ্ধ করার কথা থাকলেও যথাযথ তদারকির অভাবে অপরিশোধিত বা নিম্নমানের পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট, ওভারহেড ট্যাংক ও পাইপলাইন প্রকল্প পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরবর্তীতে পানি সরবরাহ, হাউস কানেকশনের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করেন ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পিউর লাইফ “ল সিস্টেম নামক এক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ন্যাস্ত করেন। ইতোমধ্যে ঠিকাদার পৌরসভার ৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের প্রায় ১ হাজার ৮০০ সংযোগ দিয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৮০০ গ্রাহক পানি সেবা পাচ্ছেন।তবে তাদের মধ্যে অনেকের অভিযোগ, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের দর্বল ব্যবস্থাপনা ও কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবে প্রত্যাশিত মানের বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন গ্রাহকরা।
পৌর সভার ৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সাইফুল ইসলাম জানান,সরবরাহকৃত পানিতে দুর্গন্ধ, ময়লা, শেওলা এবং নদীর পানির মতো ঘোলাটে রং দেখা যাচ্ছে। পৌর সভা কে জানানোর পরও কোন পরিবর্তন হচ্ছে না।
এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের হোমনা কার্যালয়ের সহকারী প্রকৌশলী আবুল হাশিম জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পানি শোধনাগার, ওভারহেড ট্যাংক, ট্রান্সমিশন লাইন, মেকানিক্যাল ও ইলেকট্রিক্যাল অবকাঠামো, ক্লোরিনেশন ব্যবস্থা এবং অন্যান্য স্থাপনা নির্মাণ করে পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, “পানি শোধনের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিকেরও ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে। সরবরাহকৃত পানির মান খারাপ হওয়ার কারণ সম্পর্কে পৌরসভাই বিস্তারিত বলতে পারবে।
হোমনা পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, “রক্ষণাবেক্ষণ ও পানি সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে প্রতি মাসে ১ লাখ ৬০ হাজার ৮২৫ টাকা প্রদান করা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ‘পিউর লাইফ’-এর প্রতিনিধি মো. জাকির হোসেন বলেন, “এ ধরনের সমস্যা হওয়ার কথা নয়। তারপরও অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
হোমনা পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আহম্মেদ মোফাচ্ছের বলেন, “পানির মান নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।