
সাম্প্রতিক শিশু ধর্ষণের ঘটনায় ইউএনও’র আবেগঘন ফেসবুক পোস্ট:
“এক সমুদ্র ঘৃণা নিয়ে বিদায় নিয়েছে সে”
কুমিল্লার বরুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আসাদুজ্জামান রনি সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া এক অবুঝ শিশুকে নির্মমভাবে ধর্ষণের ঘটনায় চরম ক্ষোভ, দুঃখ ও মর্মবেদনা প্রকাশ তিনি । সমাজের এই চরম অবক্ষয় এবং পৈশাচিকতায় একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তার পাশাপাশি সাধারণ মানুষ হিসেবেও তাঁর হৃদয় যে কতটা রক্তাক্ত হয়েছে, তা ফুটে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া তাঁর একটি ফেসবুক পোস্টে।
সম্প্রতি নিজের অফিসিয়াল ফেজবুকে দেওয়া ওই পোস্টে তিনি রামিসা, আছিয়া, সায়মার মতো অসংখ্য নিষ্পাপ শিশুর অকাল ও নির্মম বিদায়ের কথা স্মরণ করে গভীর শোক প্রকাশ করেন।
ইউএনও তাঁর পোস্টে লেখেন:
”আহা! মৃত্যুর আগে খোলা চোখদুটো দিয়েই সে দেখছিলো অমানুষটা তাকে কিভাবে যন্ত্রণা দিচ্ছে! সে হয়তো ভাবছিলো, সে তো কোনো অপরাধ করেনি কিন্তু অমানুষটা কেন এত কষ্ট দিচ্ছে 😭😭। হয়তো এই পৃথিবীর সকল মানুষের প্রতি এক সমুদ্র ঘৃণা নিয়ে সে বিদায় নিয়েছে!”
একটি শিশুর শেষ মুহূর্তের অবর্ণনীয় কষ্ট ও মানসিক যন্ত্রণার কথা তুলে ধরে তিনি সমাজের বিবেককে নাড়া দিয়েছেন। নিষ্পাপ শিশুদের ওপর এমন পাশবিক নির্যাতনের পুনরাবৃত্তি নিয়ে চরম হতাশা প্রকাশ করে তিনি আরও লেখেন— “রামিসা (৮), আছিয়া (৮), সায়মা (৭)…অগণিত। আর কত!!”
পোস্টের শেষাংশে স্রষ্টার দরবারে আকুল আর্জি জানিয়ে এই প্রশাসনিক কর্মকর্তা লিখেছেন— “হে বিধাতা! এ ছোট্ট মামণিরা কেন এভাবে বিদায় নেয়!”
একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার এমন আবেগঘন ও সংবেদনশীল পোস্ট মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। নেটিজেনরা ইউএনও’র এই মানবিক বোধের প্রশংসা করার পাশাপাশি জড়িত অপরাধীর দ্রুততম সময়ে সর্বোচ্চ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের একজন শীর্ষ কর্মকর্তার এই ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ প্রমাণ করে যে, অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কতটা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এই ধরণের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে কেবল আইনগত ব্যবস্থাই নয়, বরং সামাজিক ও পারিবারিক সচেতনতা এবং নৈতিক শিক্ষার জাগরণ এখন সময়ের দাবি।